বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে এবার ৩৬,৬২৮ কোটি টাকার বরাদ্দ চূড়ান্ত হয়েছে। আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করস্থানীয় সরকার। এই বরাদ্দের মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা শিক্ষা খাতে ব্যয় হবে বলে জানা গেছে।
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পটভূমি
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ক্রমাগত বাড়ছে। তবে আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় এটি এখনো যথেষ্ট নয়। বিশ্বব্যাপী শিক্ষা খাতে জিডিপির ৪-৬ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব থাকলেও বাংলাদেশে এখনো তা ২ শতাংশের আশেপাশেই আটকে আছে। সরকার জানিয়েছে, আগামী ৫ বছরের মধ্যে শিক্ষা বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই বরাদ্দের মধ্যে দক্ষতা ভিত্তিক শিক্ষা, মূল্যবোধ শিক্ষা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবন, কারিগরি শিক্ষা, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর শ্রেণিকক্ষ, গবেষণা এবং শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মানবসম্পদে রূপান্তর করা।
ESA ২০২৬ রিপোর্ট: শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ
ইউনিসেফ ও গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (GPE) যৌথভাবে প্রকাশিত বাংলাদেশ শিক্ষা সেক্টর অ্যানালাইসিস (ESA) ২০২৬ রিপোর্টে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে শিক্ষায় প্রবেশাধিকার ও লিঙ্গ সমতায় অগ্রগতি হলেও শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে এখনো গুরুতর ঘাটতি রয়েছে।
ঢাকায় হোটেল শেরাতনে অনুষ্ঠিত এই যাচাইকরণ কর্মশালায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের শেখার মান প্রত্যাশিত মাত্রায় না পৌঁছানো, উচ্চ ঝরে যাওয়ার হার এবং শিক্ষা খাতে দীর্ঘস্থায়ী অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ এই সমস্যার প্রধান কারণ। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রমাণভিত্তিক শিক্ষা সংস্কার করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
কারিগরি ও দক্ষতা ভিত্তিক শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব
নতুন বরাদ্দে কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে বাংলাদেশের তরুণদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সক্ষম করতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে। এডুটেক, অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম এবং ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
শিক্ষা প্রতিমন্তী জানিয়েছেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হবে না। সরকার শিক্ষা খাতে সংস্কার চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।
শিক্ষক উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ
শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য শিক্ষকদের যোগ্যতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। নতুন বরাদ্দে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ মডিউল চালু করা হবে এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানো হবে।
এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, পাঠ্যপুস্তক আপডেট এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি সংস্কারেও বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
উপসংহার
বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ESA ২০২৬ রিপোর্টের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করে শিক্ষার মান বৃদ্ধি, ঝরে যাওয়ার হার কমানো এবং সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বাংলাদেশ শিক্ষা খাতে একটি নতুন দিগন্ত তৈরি করতে পারবে।
সংবাদের উৎস: Dhaka Tribune, The Daily Star, JustNewsBD, UNICEF Bangladesh


