ভাসমান স্কুলে বাংলাদেশকে বিশ্বে শ্রদ্ধা, শিক্ষা খাতে বাজেটও বাড়ছে
বাংলাদেশের শিক্ষা জগতে এসেছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ। একদিকে চলনবিলের ভাসমান স্কুল প্রকল্প ইউনেস্কোর সেরা সাক্ষরতা পুরস্কার জিতেছে, অন্যদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ৯৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে শিক্ষার সমন্বয় নিয়ে আলোচনাও তুঙ্গে।
চলনবিলের ভাসমান স্কুল পেল ইউনেস্কো পুরস্কার
বাংলাদেশের সোলার-পাওয়ার্ড ভাসমান স্কুল উদ্যোগ ইউনেস্কো কনফুশিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার ২০২৫ জিতেছে। চলনবিল এলাকার বন্যাপ্রবণ অঞ্চলের শিশুদের কথা মাথায় রেখে শিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা এই অনন্য প্রকল্প চালু করেছে। গত ১০ জুন ২০২৬ ইউনেস্কো ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।
চলনবিল অঞ্চলে প্রতি বছর বন্যায় স্কুলগুলো ডুবে যায়, শিশুরা পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত হয়। ভাসমান স্কুল প্রকল্প সেই সমস্যার সমাধান হিসেবে দাঁড়িয়েছে। সৌরশক্তিতে চালিত এই স্কুলগুলো বন্যার সময়ও শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিয়ে যায়। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত যে দেশের নিজস্ব উদ্ভাবন বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃতি পেয়েছে।
শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে মোট ৯৫,৬৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা সালেহুদ্দিন আহমেদ এই বরাদ্দ ঘোষণা করেন। তবে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বরাদ্দ আগের বছরের তুলনায় ৩,৪১৬ কোটি টাকা কমেছে, যা শিক্ষাবিদদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুটি বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় মিলিয়ে এই বরাদ্দ নির্ধারিত হয়েছে। মোট বাজেটের প্রায় ১২.১ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে। শিক্ষাবিদরা মনে করেন, প্রাথমিক শিক্ষায় বরাদ্দ কমানোর পরিবর্তে এটি বাড়ানো উচিত ছিল কারণ ভিত্তি মজবুত না হলে সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা কাজ করতে পারবে না।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও শিক্ষার ভবিষ্যৎ
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ভূমিকা নিয়ে সম্প্রতি তুমুল আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, AI বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার মান উন্নয়নে বিপ্লব আনতে পারে। ব্যক্তিগতকৃত শিক্ষা, ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ এবং দূর্বল শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে AI ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে এই প্রযুক্তি বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে — ইন্টারনেট সংযোগের অভাব, ডিজিটাল সাক্ষরতার ঘাটতি এবং অবকাঠামোর দুর্বলতা প্রধান বাধা। সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ প্রয়াসে এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য এই সংবাদগুলো কেন গুরুত্বপূর্ণ
ভাসমান স্কুলের সাফল্য দেখায় যে সমস্যার সমাধান বাংলাদেশের মানুষই বের করতে পারে। বাজেট বরাদ্দ সম্পর্কে জানলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা সরকারের ওপেন ডেটা ব্যবহার করে জবাবদিহিতা চাইতে পারবেন। আর AI সম্পর্কে সচেতনতা থাকলে তরুণরা ভবিষ্যতের জব মার্কেটের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে।
শিক্ষা কেবল পরীক্ষার ফলাফল নয়, এটি একটি দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার ভিত্তি। তাই শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিটি সংবাদ আমাদের সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সংবাদের উৎস: Dhaka Tribune, The Daily Star, TBS News, UNESCO Dhaka

