বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আসছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় সব বোর্ডে একই প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা হবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে শিক্ষা ব্যবস্থার মানকম নিশ্চিত করা ও বোর্ডভিত্তিক বৈষম্য দূর করার লক্ষ্য রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রী এএনএম এহসানুল হক মিলন সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, একটি বাংলাদেশে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া চলবে না। তিনি বলেন, দেশের যেকোনো জায়গায় পড়াশোনাকারী শিক্ষার্থী সমান মানের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারুক, সেটাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে পৃথকভাবে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হতো, যার ফলে পরীক্ষার কঠোরতা ও মানের তারতম্য দেখা দিত।

এই সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, একই প্রশ্নপত্র সব বোর্ডে দিলে পরীক্ষার প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের সুযোগ কমবে। অন্যদিকে, অনেক শিক্ষক ও মানুষের মতে, এটি শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা আনতে সহায়ক হবে।

এছাড়া, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এইচএসসি পরীক্ষার ফর্ম পূরণের সময়সীমা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনলাইনে ফর্ম পূরণের শেষ সময়সীমা বিলম্বিত হয়েছে, যাতে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। বোর্ড জানিয়েছে, বিলম্বিত সময়সীমায় ফর্ম পূরণ করলে অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হবে।

এই পরিবর্তনটি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড, যারা ইতিমধ্যে আলিম পরীক্ষার চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ করেছে। মাদরাসা বোর্ডের আলিম পরীক্ষার সংশোধিত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশিত হয়েছে এবং পরীক্ষার্থীরা এখন তাদের কেন্দ্র পরীক্ষা করে নিতে পারেন।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একীভূত প্রশ্নপত্র প্রথম পর্যায়ে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিজেবেশি করা উচিত, কারণ প্রতিযোগিতা সমান মাঠে হবে।

উৎস: দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন, দৈনিক স্টার, বাংলাট্রিবিউন, এবং বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত নোটিশ।

শেয়ার করো: Facebook Telegram WhatsApp