

বাংলাদেশের প্রযুক্তিপ্রেমীদের কাছে নকিয়া মানেই এক নস্টালজিয়া আর আস্থার প্রতীক। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে কোম্পানিটি তাদের নতুন ফ্ল্যাগশিপ-কিলার ডিভাইস নিয়ে হাজির হচ্ছে। নতুন বছরের সবচেয়ে আলোচিত ফোনগুলোর একটি হতে যাচ্ছে এটি, যা মূলত nokia 5g নেটওয়ার্কের সর্বোচ্চ গতি এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন ঘটাতে প্রস্তুত। ঢাকা বা চট্টগ্রামের ব্যস্ততম রাস্তায় দাঁড়িয়ে সেকেন্ডের মধ্যে বড় সাইজের ফাইল ডাউনলোড করতে চান কিংবা নিরবচ্ছিন্ন হাই-স্পিড ব্রাউজিংয়ের অভিজ্ঞতা পেতে চান, এই নতুন ডিভাইসটি হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ। আজ আমরা এই আর্টিকেলে Nokia G42 5G এর সম্ভাব্য দাম, অবিশ্বাস্য সব স্পেসিফিকেশন এবং বাংলাদেশ বাজারে এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
Nokia G42 5G কেন এত আলোচনায়?
বর্তমান বাংলাদেশে ফাইভ-জি নেটওয়ার্কের বিস্তার দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এই সময়ে দাঁড়িয়ে গ্রাহকরা এমন একটি ফোন চান যা সাশ্রয়ী মূল্যে প্রিমিয়াম সার্ভিস দেবে। Nokia G42 5G ঠিক এই জায়গাটিতেই আঘাত করতে চলেছে। নকিয়ার ঐতিহ্যবাহী মজবুত বিল্ড কোয়ালিটির সাথে আধুনিক ফিচারের সমন্বয় একে আলোচনার শীর্ষে নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশে নকিয়া ভক্তদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি শক্তিশালী চিপসেট এবং আকর্ষণীয় ডিসপ্লেযুক্ত ফোন, যা এই মডেলটির মাধ্যমে পূরণ হতে চলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এতে এমন কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে যা সচরাচর এই বাজেটের ফোনে দেখা যায় না। এর প্রিমিয়াম ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজ এবং দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্সের কারণে এটি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে সাড়া ফেলেছে। আপনি যদি নতুন বছরে একটি নির্ভরযোগ্য স্মার্টফোন কেনার কথা ভেবে থাকেন, তবে এই ডিভাইসটি আপনার চিন্তাভাবনায় বড়সড় পরিবর্তন আনতে পারে। আরও মোবাইল রিভিউ পড়ুন → যাতে আপনি ২০২৬ সালের অন্যান্য সেরা ফোনগুলোর সাথে এর একটি তুলনামূলক ধারণা পেতে পারেন।
তাছাড়া, Nokia বাংলাদেশ বরাবরই তাদের কাস্টমার সার্ভিস ও সফটওয়্যার আপডেটের জন্য প্রশংসিত। এই ফোনেও অন্তত ৩ থেকে ৪ বছরের সিকিউরিটি প্যাচ ও ওএস আপডেট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা একে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত উপযোগী করে তোলে। সব মিলিয়ে, মিড-রেঞ্জ বাজেটে প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ফোনের আবির্ভাব ঘটতে যাচ্ছে।

Nokia G42 5G স্পেসিফিকেশন 2026 — বিস্তারিত
নিচে এই বছরের অন্যতম প্রতীক্ষিত নকিয়া স্মার্টফোনের প্রত্যাশিত ও আনুমানিক স্পেসিফিকেশন টেবিল আকারে দেওয়া হলো, যা আপনাকে ফোনটির ক্ষমতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেবে:
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| 📱 ডিসপ্লে | Expected AMOLED, 120Hz Refresh Rate, 1200+ nits peak brightness |
| ⚡ প্রসেসর | Latest Snapdragon / MediaTek Flagship Processor (5nm architecture) |
| 🧠 RAM / স্টোরেজ | 8GB / 12GB RAM, 128GB / 256GB Internal Storage (UFS 4.0) |
| 📸 মূল ক্যামেরা | Multi-camera setup with 108MP Primary Sensor and OIS (Optical Image Stabilization) |
| 🤳 সেলফি ক্যামেরা | 32MP Front Camera with HDR and 4K Recording |
| 🔋 ব্যাটারি | 5000mAh+ High Capacity with 67W Ultra-Fast Charging |
| 💻 OS | Android 16 with Pure Android Experience (No Bloatware) |
| 🛡️ IP রেটিং | IP68 Dust and Water Resistant (Expected) |
| 🗓️ লঞ্চ তারিখ | Late 2026 (Expected) |
| 💰 দাম (USD) | To be announced |
| 💰 দাম (BDT) | আনুমানিক ৳৩০,০০০ – ৳৫০,০০০ |
উপরের স্পেসিফিকেশনগুলো থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, নকিয়া এবার পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে কোনো আপস করতে রাজি নয়। এই বাজেটে IP68 রেটিং এবং OIS ক্যামেরা দেওয়া সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। গ্লোবাল লঞ্চের সাথে সাথেই এর আসল কার্যক্ষমতা আরও ভালোভাবে জানা যাবে, তবে ট্র্যাকিং ডাটা অনুযায়ী এটি একটি অলরাউন্ডার প্যাকেজ হতে চলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সর্বশেষ আপডেট জানতে GSMArena-তে বিস্তারিত দেখুন।
Nokia G42 5G ডিজাইন ও ডিসপ্লে
ডিজাইনের ক্ষেত্রে নকিয়া সবসময়ই একটি মিনিমালিস্ট এবং ক্লাসিক লুক বজায় রাখতে পছন্দ করে। Nokia G42 5G ২০২৬ সংস্করণেও এর ব্যতিক্রম ঘটছে না। এর পেছনের অংশে গ্লাস-লাইক ফিনিশিং ব্যবহার করা হয়েছে যা এক নজরে দেখলে প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপের অনুভূতি দেয়। ক্যামেরা মডিউলের সুন্দর বিন্যাস এবং ব্র্যান্ডের লোগোটি ফোনটিকে বেশ আকর্ষণীয় করে তুলেছে। হাতে ধরলে এটি বেশ স্লিম এবং ওজনে ভারসাম্যপূর্ণ মনে হয়, যা দীর্ঘক্ষণ একহাতে ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশ আরামদায়ক।
এবার আসা যাক ডিসপ্লের কথায়। এই ফোনে রয়েছে একটি ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেটের চমৎকার AMOLED প্যানেল। বাংলাদেশের তীব্র রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে স্ক্রিনে কিছু পড়া অনেক ফোনেই কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এই ফোনের উচ্চ ব্রাইটনেস বা উজ্জ্বলতার কারণে সরাসরি সূর্যের আলোতেও আপনি খুব সহজেই সবকিছু দেখতে পাবেন। আপনি যদি নেটফ্লিক্সে মুভি দেখতে পছন্দ করেন বা ইউটিউবে ৪কে ভিডিও উপভোগ করতে চান, তবে এর প্রাণবন্ত রঙ এবং গভীর কালো রঙের আউটপুট আপনাকে মুগ্ধ করতে বাধ্য। ডিসপ্লের বেজেলগুলোও বেশ পাতলা রাখা হয়েছে, যার ফলে গেম খেলার সময় বা ভিডিও দেখার সময় দারুণ এক ইমার্সিভ ভিউ পাওয়া যায়।
তাছাড়া, দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ক্ষতিকর প্রভাব দূর করতে এতে আই-কমফোর্ট শিল্ড প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা শহরের যানজটে বসে দীর্ঘক্ষণ সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করার সময় আপনার চোখের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে না। স্ক্রিনের সুরক্ষায় কর্নিং গরিলা গ্লাসের লেটেস্ট সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছে, যা ছোটখাটো হাত থেকে পড়ে যাওয়া বা পকেটে থাকা চাবির স্ক্র্যাচ থেকে ডিসপ্লেকে রক্ষা করবে।
Nokia G42 5G ক্যামেরা: রাস্তায় কেমন ছবি উঠবে?
আমরা যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয়, তাদের জন্য একটি ভালো ক্যামেরা ফোনের বিকল্প নেই। বিশেষ করে বাংলাদেশের রঙিন উৎসব, বর্ষাকালের মেঘলা আকাশ কিংবা যান্ত্রিক ঢাকার রাতের আলোর খেলা ক্যামেরাবন্দী করতে সবাই ভালোবাসেন। Nokia G42 5G ফোনে দেওয়া হয়েছে ওআইএস (OIS) যুক্ত একটি মাল্টি-ক্যামেরা সেটআপ। অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন থাকার বড় সুবিধা হলো, হাঁটার সময় বা হাত সামান্য কাঁপলেও আপনার ছবি বা ভিডিও একদম নিখুঁত এবং ব্লার-মুক্ত আসবে।

ঢাকার পুরান ঢাকার চকবাজারের রাতের কোলাহলপূর্ণ ও কম আলোর পরিবেশ কিংবা রমনা পার্কের বিকালের সোনালী রোদ—সব পরিস্থিতিতেই এই ক্যামেরা দারুণ পারফর্ম করবে। এর নাইট মোড অ্যালগরিদম কম আলোতেও চমৎকার ব্রাইটনেস এবং ডিটেইলস ধরে রাখতে পারে। এছাড়া, পোর্ট্রেট মোডে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করার নিখুঁত ক্ষমতা ছবির সাবজেক্টকে আরও ফুটিয়ে তোলে। সেলফিপ্রেমীদের জন্য রয়েছে একটি ৩২ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা, যা দিয়ে অনায়াসে সোশ্যাল মিডিয়া রেডি ছবি এবং ক্রিস্টাল ক্লিয়ার ভিডিও কল করা সম্ভব।
এই বাজেটে ক্যামেরা নিয়ে যারা কাজ করতে চান, তাদের জন্য এর প্রো-মোড এবং সিনেমাটিক ভিডিও ফিল্টারগুলো বেশ কাজের প্রমাণিত হবে। আপনি যদি ছবি তুলতে ভালোবাসেন এবং চমৎকার সব এডিটিং সফটওয়্যার বা ক্যামেরা ইউটিলিটি অ্যাপ খুঁজছেন, তবে আমাদের স্পেশাল অ্যাপ রিভিউও পড়ুন → যা আপনার ফটোগ্রাফির অভিজ্ঞতাকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দেবে।
Nokia G42 5G পারফরম্যান্স ও ব্যাটারি
একটি স্মার্টফোনের প্রাণ হলো তার প্রসেসর। Nokia G42 5G ফোনে ব্যবহৃত হয়েছে ২০২৬ সালের অন্যতম সেরা ফ্ল্যাগশিপ চিপসেট। ৫ ন্যানোমিটার আর্কিটেকচারে তৈরি এই প্রসেসরটি যেমন শক্তিশালী, তেমনই অত্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। ফলে গেমারদের জন্য এটি অত্যন্ত সুখবর হতে যাচ্ছে। যারা Free Fire, PUBG কিংবা Genshin Impact-এর মতো ভারী গেমগুলো হাই গ্রাফিক্সে খেলতে চান, তারা কোনো ল্যাগ বা ফ্রেম ড্রপ ছাড়াই অনায়াসে খেলতে পারবেন।
বাংলাদেশের চরম গরমে একটানা গেম খেললে বা ভারী কাজ করলে ফোন গরম হয়ে যাওয়াটা খুবই সাধারণ সমস্যা। তবে এই ফোনে উন্নত লিকুইড কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করার সম্ভাবনা রয়েছে, যা প্রসেসরের তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে। ব্যাকগ্রাউন্ডে একসাথে অনেকগুলো অ্যাপ বা মাল্টিটাস্কিং করার সময় এর ৮ জিবি বা ১২ জিবি র্যাম অত্যন্ত স্মুথ পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে। কোনো অ্যাপ রিলোড হওয়া ছাড়াই আপনি এক অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে নিমেষেই সুইচ করতে পারবেন।
আর ব্যাটারি ব্যাকআপের কথা বলতে গেলে, এতে রয়েছে ৫০০০ এমএএইচ-এরও বেশি ক্ষমতা সম্পন্ন একটি বিশাল ব্যাটারি। সাথে রয়েছে ফাস্ট চার্জিং সুবিধা। সকালে শতভাগ চার্জ নিয়ে বের হলে সারাদিন ডেটা অন রেখে, জিপিএস ব্যবহার করে এবং প্রচুর ছবি তোলার পরেও রাতে বাড়ি ফেরার সময়ও আপনার ফোনে পর্যাপ্ত চার্জ অবশিষ্ট থাকবে। মাত্র ৩০-৩৫ মিনিটের চার্জে ফোনটি সারাদিনের ব্যবহারের উপযোগী হয়ে যায়, যা ব্যস্ততম প্রফেশনালদের জন্য খুবই স্বস্তিদায়ক।
বাংলাদেশে Nokia G42 5G এর দাম ও পাওয়ার জায়গা
বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য স্মার্টফোনের দাম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশে Nokia G42 5G এর আনুমানিক দাম নির্ধারণ করা হতে পারে ৳৩০,০০০ থেকে ৳৫০,০০০ টাকার মধ্যে (ভেরিয়েন্ট ভেদে)। এই প্রাইস রেঞ্জে ফোনটি চীনের অন্যান্য ব্র্যান্ডের সাথে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হবে। তবে নকিয়ার নিজস্ব ব্রোকার ডিস্ট্রিবিউশন এবং নির্ভরযোগ্যতার কারণে অনেকেই বাড়তি টাকা খরচ করতে দ্বিধাবোধ করবেন না।
লঞ্চের পর ফোনটি দারাজ (Daraz), রায়ান্স কম্পিউটাস (Ryans), স্টারটেক (StarTech) এবং দেশের বিভিন্ন বড় বড় শহরের নকিয়ার অফিসিয়াল শোরুমে পাওয়া যাবে। অনেক রিটেইল শপ এবং ব্যাংকের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ডে বিনা সুদে ইএমআই (EMI) সুবিধায়ও এটি কেনার সুযোগ থাকবে, যা মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য চমৎকার একটি সুযোগ হতে পারে। এই ব্র্যান্ডটির বিশ্বব্যাপী ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে চাইলে Nokia সম্পর্কে Wikipedia-তে পড়ুন। আপনি যদি চাকরিজীবী হন বা নতুন কোনো ক্যারিয়ারের সন্ধান করছেন এবং প্রযুক্তির দুনিয়ায় যুক্ত থাকতে চান, তবে আমাদের সাইটে প্রকাশিত নিয়মিত আপডেটগুলো দেখুন এবং আপনার প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য চাকরির খবর দেখুন →।

একই বাজেটে প্রতিযোগী ফোন: কোনটা কিনবেন?
৳৩০,০০০ থেকে ৳৫০,০০০ টাকার বাজেট ক্যাটাগরিটি বাংলাদেশে খুবই প্রতিযোগিতাপূর্ণ। এই বাজেটে Realme, Xiaomi এবং Samsung-এর বেশ কিছু জনপ্রিয় মডেল রয়েছে। যেমন Xiaomi Note সিরিজের নতুন সংস্করণ এবং Samsung Galaxy A-সিরিজের ফোনগুলো সরাসরি এই ফোনের সাথে টক্কর দেবে। যেখানে Xiaomi হয়তো কাগজের কলমে আরও কিছুটা বেশি চার্জিং স্পিড অফার করবে, সেখানে নকিয়া এগিয়ে থাকবে তার পিওর বা স্টক অ্যান্ড্রয়েড ইন্টারফেসের কারণে। এতে কোনো বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন বা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ (Bloatware) থাকবে না।
অন্যদিকে, Samsung-এর স্ক্রিন কোয়ালিটি চমৎকার হলেও একই বাজেটে নকিয়া সাধারণত বেশি প্রিমিয়াম বিল্ড এবং কিছুটা ভালো চিপসেট দিয়ে থাকে। আবার Realme তাদের স্টাইলিশ ডিজাইন দিয়ে তরুনদের আকর্ষণ করলেও নকিয়ার দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং সিকিউরিটি আপডেটের নিশ্চয়তা অনেক সচেতন গ্রাহকের কাছেই বেশি গ্রহণযোগ্য মনে হবে। তাই বলা যায়, যারা নিখাদ পারফরম্যান্স এবং ক্লিন সফটওয়্যার পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটিই সেরা বিকল্প।
কে কিনবেন, কে কিনবেন না?
- ✅ কিনুন: যারা স্টক অ্যান্ড্রয়েড পছন্দ করেন এবং ফোনে কোনো বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন দেখতে চান না।
- ✅ কিনুন: যাদের জন্য nokia 5g কানেক্টিভিটি এবং অত্যন্ত টেকসই বিল্ড কোয়ালিটি অগ্রাধিকার পায়।
- ✅ কিনুন: যারা মিড-রেঞ্জে OIS যুক্ত ভালো ক্যামেরা এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি ব্যাকআপ চান।
- ❌ এড়িয়ে যান: যারা অত্যন্ত কম বাজেটে শুধুমাত্র গেমিংয়ের জন্য কোনো ডেডিকেটেড গেমিং ফোন খুঁজছেন।
- ❌ এড়িয়ে যান: যাদের জন্য অতি দ্রুত চার্জিং (যেমন ১০০ ওয়াট বা তার বেশি) অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞ মতামত (Expert Opinion)
একজন প্রবীণ প্রযুক্তি সাংবাদিক হিসেবে মোবাইল রিভিউ 2026-এর বাজারে আমি বহু ব্র্যান্ডের উত্থান-পতন দেখেছি। নকিয়ার এই নতুন ডিভাইসটি মূলত তাদের হারিয়ে যাওয়া বাজার পুনরুদ্ধার করার একটি সাহসী প্রচেষ্টা। দীর্ঘ সময় ধরে নকিয়া ডিভাইসগুলো পর্যবেক্ষণ করার পর আমি বলতে পারি, কাগজের স্পেসিফিকেশনের চেয়ে বাস্তব জীবনের পারফরম্যান্সেই নকিয়া সবসময় বেশি জোর দেয়। এই ফোনেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। এর স্ক্রিন কোয়ালিটি এবং OIS ক্যামেরা সত্যিই এই বাজেটে প্রশংসনীয় প্রশংসার দাবিদার।
তবে আমাদের বিশ্লেষণে কিছু দুর্বল দিকও উঠে এসেছে। ফোনের বক্সের ভেতর হয়তো আজকালকার ট্রেন্ড মেনে চার্জার এডাপ্টার নাও দেওয়া হতে পারে, যা অনেক বাংলাদেশি সাধারণ ব্যবহারকারীকে হতাশ করবে। তাছাড়া, অফলাইন মার্কেটে এর খুচরা যন্ত্রাংশ বা পার্টস সহজে পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা বেগ পেতে হতে পারে। কিন্তু আপনি যদি এমন একজন ব্যক্তি হন যিনি একটি ফোন কিনে অন্তত ৩-৪ বছর নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে চান, তবে স্মার্টফোন দাম 2026-এর বাজারে এই রেঞ্জের মধ্যে Nokia G42 5G আপনার জন্য অন্যতম সেরা এবং নির্ভরযোগ্য ডিল হতে চলেছে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
Nokia G42 5G বাংলাদেশে কবে আসবে?
Nokia G42 5G ফোনটি ২০২৬ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশের বাজারে অফিশিয়ালি বা আনঅফিশিয়ালি লঞ্চ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে Nokia G42 5G এর দাম কত?
বাংলাদেশি বাজারে এর আনুমানিক দাম হতে পারে ৳৩০,০০০ থেকে ৳৫০,০০০ টাকার মধ্যে, যা র্যাম এবং স্টোরেজ ভেরিয়েন্টের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হবে।
এই ফোনটি কি গেমিংয়ের জন্য ভালো?
হ্যাঁ, এতে থাকা ফ্ল্যাগশিপ প্রসেসর এবং ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লের কারণে Free Fire এবং PUBG-এর মতো গেমগুলো খুব সহজেই খেলা যাবে।
Nokia G42 5G কি পানি-প্রতিরোধী?
হ্যাঁ, এতে IP68 রেটিং থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে এটি ধুলো এবং জল-প্রতিরোধী (Water-resistant) হবে।
অন্যান্য ব্র্যান্ড নাকি Nokia G42 5G — কোনটা কিনবো?
আপনি যদি ক্লিন সফটওয়্যার, শক্তিশালী বিল্ড কোয়ালিটি এবং চমৎকার ক্যামেরা চান তবে Nokia G42 5G সেরা। আর আপনি যদি কেবলই এক্সট্রিম কাস্টমাইজেশন পছন্দ করেন তবে অন্য ব্র্যান্ড দেখতে পারেন।
📌 সর্বশেষ কথা: ২০২৬ সালে নকিয়া তাদের ফাইভ-জি লাইনআপে এই ফোনটির মাধ্যমে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চলেছে, যা গ্রাহকদের আধুনিক সব চাহিদাই পূরণ করবে। আপনি কি নকিয়ার এই নতুন হ্যান্ডসেটটি কিনতে আগ্রহী নাকি অন্য কোনো ফোন কেনার কথা ভাবছেন? আপনার মূল্যবান মতামত নিচে কমেন্ট বক্সে আমাদের সাথে শেয়ার করুন। আমাদের সাইটে নিয়মিত নতুন এবং এক্সক্লুসিভ মোবাইল রিভিউ পেতে আমাদের বুকমার্ক করে রাখুন। আপনার মতে এই বাজেটে অন্য কোনো ফোন কি একে টেক্কা দিতে পারবে?


