
বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে আসন্ন জুলাই মাস থেকে বিশাল পরিবর্তন আসছে। সরকার নবম পে-স্কেল ২০২৬ কার্যকরের প্রস্তুতি নিয়েছে, যার ফলে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকের বেতনে যথেষ্ট বৃদ্ধি ঘটবে।
নবম পে-স্কেল: কী কী বদলাবে?
ক্যাবিনেট সচিব নাসিমুল ঘানীর প্রধানত্বে গঠিত কমিটি নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেতনের বিশাল বৃদ্ধি, পেনশনারদের বড় সুবিধা এবং পুরাতন বেতন কাঠামোর পরিবর্তন। সরকারি কর্মচারী ও এমপিও-তালিকাভুক্ত শিক্ষকরা এই নতুন পে-স্কেল থেকে উপকৃত হবেন।
বর্তমানে প্রাইমারি স্কুলের সহকারী শিক্ষকরা ১৩শ গ্রেডের বেতন পান, যা বেশ কম। নতুন পে-স্কেলে তাদের বেতন আরও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডের বেতনও পুনর্বিবেচনা করা হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি
শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের মাসিক অনুদান বাড়িয়েছে। প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক এবং জুনিয়র শিক্ষকদের জন্য এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার মাদ্রাসা শিক্ষকের আর্থিক অবস্থায় উন্নতি ঘটবে।
কালের কণ্থের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য ২ মাসের অনুদান ছাড় উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি শিক্ষকদের প্রতি সরকারের সদয়তার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
শিক্ষকদের বদলি ও পেশাগত উন্নয়ন
গত কয়েকদিনে শিক্ষকদের বদলি নিয়ে বিশাল সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা নতুন করে প্রণয়নের কজন নিয়েছে। এছাড়া শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে।
সারসংক্ষেপ
আগামী জুলাই মাস থেকে বাংলাদেশের শিক্ষা খাত একটি নতুন যুগের সূচনা করবে। নবম পে-স্কেলের মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি, মাদ্রাসা শিক্ষকদের অনুদান বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক শিক্ষা খাতের আধুনিকায়নের পথে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকরা যোগ্যতা ও দায়িত্বের সাথে এই পরিবর্তনে সামনে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উৎস: The Daily Star, কালের কণ্ঠ, প্রথম আলো, teachers.gov.bd


