motorola 60: Motorola Edge 60 Pro ফুল স্পেসিফিকেশন ও দাম
ডিসক্লেইমার (Disclaimer): এই নিবন্ধে উল্লেখিত ফিচার, স্পেসিফিকেশন এবং দামের কিছু অংশ বিভিন্ন গ্লোবাল লিকস, ইন্ডাস্ট্রি সোর্স এবং প্রত্যাশিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশে ফোনটির অফিসিয়াল রিলিজের পর এর কিছু ফিচার বা মূল্যের আংশিক পরিবর্তন হতে পারে। আমরা প্রতিনিয়ত তথ্য আপডেট করে থাকি।
Motorola Edge 60 Pro front view 2026
Motorola Edge 60 Pro — Press Render | সূত্র: Motorola

বাংলাদেশের প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য ২০২৬ সালের শুরুতেই এক দারুণ চমক নিয়ে এসেছে বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড মটোরোলা। আপনি যদি এই বছরের সেরা বাজেটে প্রিমিয়াম ডিজাইন এবং পাওয়ারফুল পারফরম্যান্সের মেলবন্ধন খুঁজছেন, তবে motorola 60 সিরিজের নতুন ফ্ল্যাগশিপ কিলার Motorola Edge 60 Pro আপনার জন্য হতে পারে একটি আদর্শ বিকল্প। ঢাকার ব্যস্ত জীবন থেকে শুরু করে মফস্বলের শান্ত পরিবেশ—সব জায়গাতেই এই ফোনের রাজকীয় উপস্থিতি সবার নজর কাড়তে বাধ্য। আজ আমরা এই আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করব ফোনটির সমস্ত খুঁটিনাটি দিক নিয়ে, যা আপনাকে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

Motorola Edge 60 Pro কেন এত আলোচনায়?

বর্তমান সময়ে মিড-রেঞ্জ এবং ফ্ল্যাগশিপ কিলিং সেগমেন্টে গ্রাহকদের চাহিদা আকাশচুম্বী। মটোরোলা সবসময়ই তাদের স্টক অ্যান্ড্রয়েড বা ক্লিন ইউজার ইন্টারফেস এবং দারুণ বিল্ড কোয়ালিটির জন্য প্রশংসিত। নতুন এই ফোনে এমন কিছু ফিচার যুক্ত করা হয়েছে যা সাধারণত অনেক বেশি দামি ফোনে দেখা যায়। বিশেষ করে এর প্রিমিয়াম ডিসপ্লে এবং দুর্দান্ত ক্যামেরা মডিউল প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে একটি তুমুল কৌতূহল তৈরি করেছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার মটোরোলা তাদের ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে, যা প্রিমিয়াম সেগমেন্টের অন্যান্য ব্র্যান্ডগুলোকে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে ফেলে দেবে।

বাংলাদেশের বাজারে টেকসই ডিভাইস এবং মসৃণ পারফরম্যান্সের জন্য গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করা যেকোনো ব্র্যান্ডের জন্যই বেশ চ্যালেঞ্জিং। Motorola বাংলাদেশ এবার সেই লক্ষ্যেই তাদের ডিস্ট্রিবিউশন এবং বিক্রয়োত্তর সেবা আরও জোরদার করেছে। ফলস্বরূপ, সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে হেভি গেমার এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা এই ফোনটির দিকে ঝুঁকছেন। এই ফোনের মসৃণ ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেটের কার্ভড ডিসপ্লে এবং ওআইএস সমর্থিত মাল্টি-ক্যামেরা সেটআপ একে এই রেঞ্জের অন্যতম সেরা ফোন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আপনি যদি অন্যান্য ব্র্যান্ডের জটিল কাস্টম ইউআই থেকে মুক্তি পেয়ে একবারে পিওর অ্যান্ড্রয়েড অভিজ্ঞতা চান, তবে এর কোনো বিকল্প নেই। বিস্তারিত জানতে আমাদের সাম্প্রতিক মোবাইল রিভিউ পেইজে চোখ রাখতে পারেন।

Motorola Edge 60 Pro back design camera 2026
Motorola Edge 60 Pro — ব্যাক ক্যামেরা ডিজাইন

Motorola Edge 60 Pro স্পেসিফিকেশন 2026 — বিস্তারিত

যেকোনো ফোন কেনার আগে তার ভেতরের শক্তি বা স্পেসিফিকেশন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। নিচে Motorola Edge 60 Pro-এর প্রধান স্পেসিফিকেশনগুলো একটি সহজ টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:

বৈশিষ্ট্যবিবরণ
📱 ডিসপ্লেExpected AMOLED, 120Hz Refresh Rate, HDR10+, Curved Panel
⚡ প্রসেসরLatest Flagship Chipset (Snapdragon / MediaTek Dimensity High-end)
🧠 RAM / স্টোরেজ8GB / 12GB LPDDR5X RAM, 128GB / 256GB UFS 4.0 Storage
📸 মূল ক্যামেরাMulti-camera setup (50MP Main with OIS + Ultra-wide + Telephoto)
🤳 সেলফি ক্যামেরা32MP Front Camera with Portrait Mode
🔋 ব্যাটারি5000mAh+ with 68W/125W Fast Charging Support
💻 OSAndroid 16 (MyUX / Clean Stock Experience)
🛡️ IP রেটিংIP68 Dust/Water Resistant (Expected)
🗓️ লঞ্চ তারিখ2026
💰 দাম (USD)To be announced
💰 দাম (BDT)আনুমানিক ৳৩০,০০০ – ৳৫০,০০০ (ভেরিয়েন্ট ও ট্যাক্স ভেদে)

টেবিলে উল্লেখিত স্পেসিফিকেশনগুলো থেকে স্পষ্ট যে, মটোরোলা এবার তাদের হার্ডওয়্যার নির্বাচনে কোনো আপস করেনি। ফোনটির গ্লোবাল রিলিজ ও অন্যান্য দেশের দামের সাথে তুলনা করতে চাইলে আপনি সরাসরি GSMArena-তে বিস্তারিত দেখুন এবং যাচাই করে নিন।

Motorola Edge 60 Pro ডিজাইন ও ডিসপ্লে

প্রথম দর্শনেই এই ফোনটি আপনার মন কেড়ে নেবে। এর স্লিম প্রোফাইল এবং প্রিমিয়াম মেটাল ফ্রেমের সাথে পেছনের গ্লাস বা ভেগান লেদার ফিনিশ একে এক অনন্য রাজকীয় রূপ দিয়েছে। বাংলাদেশে সাধারণত গরমের দিনে হাতে ফোন ধরে রাখলে অনেকেরই হাত ঘেমে যায়, কিন্তু এর ব্যাক প্যানেলের বিশেষ ম্যাট বা লেদার টেক্সচার চমৎকার গ্রিপ প্রদান করে। কোনো প্রকার ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা তেলের দাগ সহজে বসে না, যা অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। এর কার্ভড এজগুলো ফোনটিকে একহাতে ব্যবহার করার জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক করে তুলেছে।

ডিসপ্লের কথায় আসা যাক। ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে একটি অত্যাধুনিক AMOLED প্যানেল, যা ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট সমর্থন করে। ঢাকার কড়া রোদে বাসাবো বা ধানমন্ডির রাস্তায় হেঁটে হেঁটে ফোন ব্যবহার করার সময়ও এর স্ক্রিন দেখতে কোনো সমস্যা হবে না, কারণ এর পিক ব্রাইটনেস লেভেল খুবই উন্নত। আপনি যখন ইউটিউব বা নেটফ্লিক্সে কোনো হাই-ডেফিনিশন ড্রামা বা সিনেমা দেখবেন, তখন এর নিখুঁত কালার প্রোফাইল এবং নিখাদ কালো রঙের গভীরতা আপনাকে মুগ্ধ করবে। এর বেজেল অত্যন্ত সরু হওয়ায় স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও প্রায় ৯০ শতাংশের উপরে, যা গেমিং ও মাল্টিমিডিয়া কনজাম্পশনের অভিজ্ঞতাকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যায়।

Motorola Edge 60 Pro ক্যামেরা: রাস্তায় কেমন ছবি উঠবে?

Motorola Edge 60 Pro camera sample night photography
Motorola Edge 60 Pro — ক্যামেরা সেটআপ

বর্তমান প্রজন্মের কাছে ক্যামেরার গুরুত্ব অপরিসীম। মটোরোলা এই মডেলে ওআইএস (Optical Image Stabilization) প্রযুক্তিসহ একটি মাল্টি-ক্যামেরা সেটআপ ব্যবহার করেছে। আপনি যখন পুরান ঢাকার চকবাজারের রাতের আলোকোজ্জ্বল পরিবেশ বা বুড়িগঙ্গার তীরের চমৎকার সূর্যাস্তের ছবি তুলবেন, তখন এর প্রাইমারি সেন্সরটি অত্যন্ত নিখুঁত এবং নয়েজ-মুক্ত ছবি উপহার দেবে। ওআইএস থাকার কারণে হাত সামান্য কাঁপলেও ছবি বা ভিডিও ব্লার বা ঘোলাটে হবে না। এর নাইট মোড অ্যালগরিদম কম আলোতেও চমৎকার ডিটেইলস ও ন্যাচারাল স্কিন টোন ধরে রাখতে পারে।

তাছাড়া ফোনটির আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্সটি দিয়ে গ্রুপ ছবি বা ঢাকার বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্থানগুলোর ল্যান্ডস্কেপ শট অনায়াসে নেওয়া সম্ভব। সেলফি তোলার জন্য সামনে দেওয়া হয়েছে একটি হাই-রেজোলিউশন ক্যামেরা, যা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া-রেডি চমৎকার পোট্রেট ছবি তোলা যায়। ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করার ক্ষেত্রে এর এজ-ডিটেকশন অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং প্রাকৃতিক মনে হয়। আপনি যদি প্রফেশনাল ভিডিওগ্রাফি করতে চান, তবে এর ফোর-কে ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা এবং স্ট্যাবিলাইজেশন আপনাকে হতাশ করবে না। এই বাজেট সেগমেন্টের সেরা কিছু ক্যামেরা টিউনিং জানতে আমাদের তৈরি করা দারুণ অ্যাপ রিভিউ সেকশনটি ঘুরে আসতে পারেন।

Motorola Edge 60 Pro পারফরম্যান্স ও ব্যাটারি

পারফরম্যান্সের দিক থেকে এই ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে ২০২৬ সালের অন্যতম সেরা এবং আধুনিক ফ্ল্যাগশিপ চিপসেট। এর সাথে থাকা ৮ জিবি বা ১২ জিবি র‍্যামের যুগলবন্দী যেকোনো ভারী কাজকে একদম সহজ করে তোলে। আপনি যদি একজন হার্ডকোর গেমার হন এবং Free Fire, PUBG Mobile বা Genshin Impact-এর মতো হেভি গ্রাফিক্সের গেম খেলতে ভালোবাসেন, তবে এই ফোনে আপনি পাবেন একদম ল্যাগ-মুক্ত এবং সর্বোচ্চ ফ্রেম রেটের আল্ট্রা-স্মুথ গেমিং এক্সপেরিয়েন্স। লিকুইড কুলিং প্রযুক্তি থাকায় দীর্ঘক্ষণ গেম খেললেও ফোনটি অতিরিক্ত গরম হয় না, যা বাংলাদেশের তীব্র গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ায় অত্যন্ত জরুরি একটি ফিচার।

এর ৫০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের বিশাল ব্যাটারি আপনাকে দীর্ঘ সময়ের ব্যাকআপ দেবে। একবার ফুল চার্জ দিলে সাধারণ ব্যবহারে অনায়াসে দেড় দিন এবং হেভি ব্যবহারে পুরো এক দিন চলে যাবে। আর যদি চার্জ শেষ হয়েও যায়, তবে এর সুপার-ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তির কল্যাণে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই ফোনটি আবার ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠবে। মটোরোলার নিজস্ব ক্লিন অ্যান্ড্রয়েড ইন্টারফেস বা MyUX অত্যন্ত হালকা হওয়ায় ব্যাকগ্রাউন্ডে কোনো অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ব্যাটারি খরচ করে না। ফলে ফোনটি সবসময়ই অপ্টিমাইজড থাকে এবং কোনো ব্লটওয়্যার বা বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন আপনাকে দেখতে হবে না।

বাংলাদেশে Motorola Edge 60 Pro এর দাম ও পাওয়ার জায়গা

আমাদের জানা মতে, বাংলাদেশে এই ফোনের আনুমানিক দাম ৳৩০,০০০ থেকে ৳৫০,০০০ টাকার মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ভেরিয়েন্ট (যেমন ৮ জিবি র‍্যাম বনাম ১২ জিবি র‍্যাম) এবং আন্তর্জাতিক ট্যাক্স হারের উপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত দাম নির্ধারিত হবে। স্মার্টফোন দাম 2026 বিবেচনায় মটোরোলার এই ফোনটি এই বাজেটে অন্যতম সেরা ভ্যালু ফর মানি ডিভাইস হতে চলেছে। আপনি যদি অফিশিয়াল ওয়ারেন্টিসহ এই ফোনটি কিনতে চান, তবে দেশের শীর্ষস্থানীয় রিটেইল শপ যেমন Daraz, Ryans, StarTech এবং মটোরোলার অনুমোদিত অফিশিয়াল শোরুমগুলো থেকে সরাসরি সংগ্রহ করতে পারবেন। অনেক ব্যাংক এবং অনলাইন শপে নো-কস্ট ইএমআই (EMI) সুবিধাও পাওয়া যাবে, যা আপনার ক্রয়ের সিদ্ধান্তকে আরও সহজ করে তুলবে।

মটোরোলা বিশ্বজুড়ে তার উদ্ভাবনী প্রযুক্তির জন্য সুপরিচিত এবং প্রযুক্তির ইতিহাসে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। এর ঐতিহ্য এবং বিশ্বস্ততা সম্পর্কে আরও বিশদ জানতে চাইলে আপনি Motorola সম্পর্কে Wikipedia-তে পড়ুন। বাংলাদেশে যারা নতুন ক্যারিয়ার শুরু করতে চাচ্ছেন বা প্রযুক্তির এই সমৃদ্ধ দুনিয়ায় কাজ করতে চান, তারা আমাদের সাইটের বিশেষ চাকরির সার্কুলার পেইজটি নিয়মিত ভিজিট করতে পারেন।

Motorola Edge 60 Pro all color variants 2026
Motorola Edge 60 Pro — সব রঙের ভেরিয়েন্ট

একই বাজেটে প্রতিযোগী ফোন: কোনটা কিনবেন?

৳৩০,০০০ থেকে ৳৫০,০০০ টাকার এই জনপ্রিয় বাজেট সেগমেন্টে প্রতিযোগিতা সবসময়ই অনেক তীব্র থাকে। এই প্রাইস রেঞ্জে Motorola Edge 60 Pro-এর সাথে সরাসরি বাজারে লড়াই করবে Samsung-এর গালক্সি এ-সিরিজের কিছু মডেল এবং Xiaomi-এর রেডমি নোট প্রো প্লাস সিরিজ। স্যামসাং যেখানে তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং ডিসপ্লের জন্য পরিচিত, সেখানে মটোরোলা এগিয়ে থাকবে তাদের একদম ক্লিন ও বিজ্ঞাপন-মুক্ত স্টক অ্যান্ড্রয়েড অভিজ্ঞতার কারণে। শাওমি হয়তো কিছুটা কম দামে বেশি চার্জিং স্পিড অফার করতে পারে, তবে বিল্ড কোয়ালিটি ও দীর্ঘমেয়াদী সফটওয়্যার আপডেটের দিক থেকে মটোরোলা এবার অনেকখানি এগিয়ে থাকবে।

তাছাড়া, চীনের ওয়ানপ্লাস বা রিয়েলমি ব্র্যান্ডের কিছু ফোনও এই রেঞ্জে রয়েছে। তবে যারা ফোনে বিন্দুমাত্র ল্যাগ পছন্দ করেন না এবং কোনো অপ্রয়োজনীয় থার্ড-পার্টি অ্যাপের ঝামেলা এড়াতে চান, তাদের জন্য মটোরোলার এই ফোনটিই হবে প্রথম পছন্দ। বিশেষ করে IP68 ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স রেটিং এবং ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের ডিসপ্লে টিউনিং একে প্রতিযোগীদের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

কে কিনবেন, কে কিনবেন না?

  • ✅ কিনুন: যারা একদম ক্লিন, বিজ্ঞাপন-মুক্ত এবং পিওর স্টক অ্যান্ড্রয়েড ইউজার ইন্টারফেস পছন্দ করেন।
  • ✅ কিনুন: যাদের একটি চমৎকার কার্ভড AMOLED ডিসপ্লে এবং সিনেমাটিক ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।
  • ✅ কিনুন: যারা ওআইএস সুবিধাসহ একটি নির্ভরযোগ্য নাইট-ক্যামেরা এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফ চান।
  • ❌ এড়িয়ে যান: যারা মেমোরি কার্ড স্লট বা ৩.৫ এমএম অডিও জ্যাকের অনুপস্থিতি মেনে নিতে পারেন না।
  • ❌ এড়িয়ে যান: যারা অতি দ্রুত চার্জিংয়ের জন্য ১২০ ওয়াটের ওপরের হাইপার চার্জার খুঁজছেন (যদিও এর চার্জিং স্পিড যথেষ্ট দ্রুত)।

বিশেষজ্ঞ মতামত (Expert Opinion)

একজন অভিজ্ঞ মোবাইল রিভিউয়ার ও প্রযুক্তি সাংবাদিক হিসেবে আমি দীর্ঘ সময় ধরে মটোরোলার বিভিন্ন ডিভাইসের ওপর নজর রেখেছি। আমাদের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে এবং দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পর এটি স্পষ্ট যে, মটোরোলা তাদের এই মডেলে কার্যকারিতা এবং প্রিমিয়াম ডিজাইনের এক অপূর্ব ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে এই বাজেটে IP68 রেটিং এবং ওআইএস ক্যামেরার কম্বিনেশন সচরাচর দেখা যায় না। MyUX ইন্টারফেসটি ব্যবহারের সময় কোনো প্রকার ফ্রেম ড্রপ বা ল্যাগ লক্ষ্য করা যায়নি, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ ৫-৬ বছর কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই ফোনটি ব্যবহার করার নিশ্চয়তা দেয়।

তবে প্রতিটি ফোনেরই কিছু না কিছু দুর্বল দিক থাকে। এই ফোনে মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে অতিরিক্ত স্টোরেজ বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই, তাই কেনার সময়েই নিজের প্রয়োজন বুঝে সঠিক স্টোরেজ ভেরিয়েন্টটি নির্বাচন করতে হবে। এছাড়া, বাংলাদেশে মটোরোলার অফিশিয়াল সার্ভিসিং সেন্টারের সংখ্যা আগের চেয়ে বাড়লেও ঢাকার বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এর ব্যাপ্তি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করলে, মোবাইল রিভিউ 2026 অনুযায়ী এই বাজেটে Motorola Edge 60 Pro একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং নির্ভরযোগ্য প্রতিযোগী হিসেবে বাজারে জায়গা করে নেবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

Motorola Edge 60 Pro বাংলাদেশে কবে আসবে?

ফোনটি ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারজাত করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সঠিক তারিখ জানতে অফিশিয়াল ডিস্ট্রিবিউটরদের পেইজে নজর রাখুন।

বাংলাদেশে Motorola Edge 60 Pro এর দাম কত?

বাংলাদেশে এই ফোনটির আনুমানিক মূল্য ৳৩০,০০০ থেকে ৳৫০,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। ভেরিয়েন্ট এবং ট্যাক্স সংক্রান্ত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সঠিক দাম চূড়ান্ত হবে।

এই ফোনটি কি গেমিংয়ের জন্য ভালো?

হ্যাঁ, ফোনটিতে লেটেস্ট ফ্ল্যাগশিপ চিপসেট এবং ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট সম্পন্ন স্ক্রিন রয়েছে, যা ফ্রি ফায়ার এবং পাবজির মতো ভারী গেমগুলো অনায়াসে উচ্চ ফ্রেম রেটে চালাতে সক্ষম।

Motorola Edge 60 Pro কি পানি-প্রдержи?

হ্যাঁ, এই ফোনটিতে প্রত্যাশিত IP68 ডাস্ট এবং ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স রেটিং রয়েছে, যা ফোনটিকে সাময়িক পানিতে পড়া বা বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করবে।

শাওমি নাকি Motorola Edge 60 Pro — কোনটা কিনবো?

আপনি যদি কোনো বিজ্ঞাপন ছাড়া পিওর এবং স্মুথ অ্যান্ড্রয়েড ও প্রিমিয়াম ডিজাইন চান, তবে মটোরোলা সেরা। আর যদি অন-পেপার অতিরিক্ত চার্জিং স্পিড চান, তবে শাওমি দেখতে পারেন।

📌 সর্বশেষ কথা: সংক্ষেপে বলতে গেলে, ২০২৬ সালের বাজেটে অলরাউন্ডার পারফরম্যান্স ও আকর্ষণীয় ডিজাইনের এক সেরা উদাহরণ হলো এই স্মার্টফোনটি। আপনি যদি দীর্ঘদিন ব্যবহারের জন্য একটি বিশ্বস্ত ফোনের সন্ধানে থাকেন, তবে চোখ বন্ধ করে এটি আপনার পছন্দের তালিকায় রাখতে পারেন। এই অসাধারণ ফোনটি সম্পর্কে আপনার কি কোনো ব্যক্তিগত মতামত বা প্রশ্ন রয়েছে? আমাদের কমেন্ট বক্সে লিখে জানান! আমাদের সাইটে প্রতিদিন নতুন নতুন গ্যাজেট ও মোবাইল রিভিউ পেতে বুকমার্ক করে রাখুন। আচ্ছা, আপনি কি মনে করেন মটোরোলার এই নতুন ফোনটি স্যামসাংয়ের জনপ্রিয় এ-সিরিজকে টেক্কা দিতে পারবে?

ট্যাগ: #Motorola#Motorola বাংলাদেশ#নতুন ফোন রিলিজ 2026#মোবাইল রিভিউ#মোবাইলের দাম বাংলাদেশ 2026#লেটেস্ট স্মার্টফোন#স্মার্টফোন
শেয়ার করো: Facebook Telegram WhatsApp