

স্মার্টফোন প্রেমীদের জন্য ২০২৬ সালের অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে নতুন asus phone। বিশেষ করে বাংলাদেশের গেমার এবং হেভি ইউজারদের কাছে এই ব্র্যান্ডের ডিভাইসগুলো সবসময়ই আলাদা একটি রোমাঞ্চ তৈরি করে। ঢাকা শহরের ব্যস্ত জ্যামে বসে কিংবা চায়ের দোকানে বন্ধুদের আড্ডায় গেমিং নিয়ে যখন আলোচনা হয়, তখন আসুসের আরওজি সিরিজের নাম আসবেই। প্রযুক্তি বিশ্বের সাম্প্রতিক লিক ও বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাজারে আসতে যাওয়া এই ফ্ল্যাগশিপ কিলার ফোনটি বাজেট ও পারফরম্যান্সের এক দারুণ ভারসাম্য নিয়ে হাজির হতে পারে। আজকের এই বিস্তারিত আলোচনায় আমরা ডিভাইসটির সম্ভাব্য ফিচার এবং কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করব।
Asus ROG Phone 9 কেন এত আলোচনায়?
মোবাইল গেমিং ইন্ডাস্ট্রিতে আসুস সবসময়ই তাদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখেছে। বিগত কয়েক বছরে তাদের আরওজি সিরিজ বিশ্বজুড়ে গেমারদের প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এবারের নতুন আসুস ফোনটি নিয়ে সাধারণ ক্রেতা ও টেক উৎসাহীদের মাঝে তুমুল হাইপ তৈরি হওয়ার প্রধান কারণ হলো এর প্রত্যাশিত বাজেট ফ্রেন্ডলি দাম। সাধারণত আরওজি সিরিজের ফোনগুলোর দাম অনেক বেশি হয়ে থাকে, তবে ২০২৬ সালের এই সংস্করণে আসুস হয়তো মাঝারি বাজেটের ক্রেতাদের টার্গেট করে দারুণ কিছু চমক দিতে যাচ্ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির পাশাপাশি মিড-রেঞ্জ সেগমেন্টে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। আসুস বাংলাদেশ এবার এমন একটি স্ট্র্যাটেজি নিয়ে কাজ করছে যাতে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও তাদের পছন্দের গেমিং ডিভাইসটি হাতের নাগালে পায়। এই ফোনে শক্তিশালী প্রসেসর এবং উচ্চ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লের সমন্বয় থাকবে যা ব্যবহারকারীদের দুর্দান্ত মাল্টিটাস্কিংয়ের অভিজ্ঞতা দেবে। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি কেন বছরের সেরা ফোন হতে পারে, তা জানতে আমাদের এই সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি পড়ুন। মোবাইল বাজারের অন্যান্য আপডেট জানতে আমাদের মোবাইল রিভিউ পেজে চোখ রাখতে পারেন।
এছাড়া, ডিভাইসটির কুলিং সিস্টেম ও ব্যাটারি ব্যাকআপ নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে। ঢাকার তীব্র গরমের মধ্যেও যেন ফোনটি অতিরিক্ত উত্তপ্ত না হয়ে দীর্ঘক্ষণ গেমিং সাপোর্ট দিতে পারে, সেই লক্ষ্যে আসুস তাদের কুলিং আর্কিটেকচারে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বলে জানা গেছে। ফলে দীর্ঘ সময় পাবজি কিংবা ফ্রি ফায়ার খেলার সময়ও ল্যাগ বা ফ্রেম ড্রপের মতো সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

Asus ROG Phone 9 স্পেসিফিকেশন 2026 — বিস্তারিত
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| 📱 ডিসপ্লে | Expected AMOLED, 120Hz Refresh Rate |
| ⚡ প্রসেসর | Latest flagship chipset (Octa-core 4nm architecture) |
| 🧠 RAM / স্টোরেজ | 8GB/12GB LPDDR5X RAM, 128GB/256GB UFS 4.0 Storage |
| 📸 মূল ক্যামেরা | Multi-camera setup with OIS (Primary 50MP Expected) |
| 🤳 সেলফি ক্যামেরা | 32MP Front Facing Camera |
| 🔋 ব্যাটারি | 5000mAh+ with 65W Fast Charging |
| 💻 OS | Android 16 with ROG UI |
| 🛡️ IP রেটিং | IP68 Dust/Water Resistant (Expected) |
| 🗓️ লঞ্চ তারিখ | 2026 |
| 💰 দাম (USD) | To be announced |
| 💰 দাম (BDT) | আনুমানিক ৳৩০,০০০ – ৳৫০,০০০ |
উপরের ছক থেকে বোঝা যায় যে, আসুস এই ডিভাইসটিতে অত্যন্ত ব্যালেন্সড ফিচার রাখার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে এই বাজেটে আইপি৬৮ রেটিং ও ওআইএস ক্যামেরা পাওয়া সত্যিই চমৎকার বিষয়। গ্লোবাল লঞ্চের পর এর স্পেসিফিকেশন সম্পর্কে আরও সুনির্দিষ্ট ধারণা পেতে এবং গ্লোবাল লিকস দেখতে GSMArena-তে বিস্তারিত দেখুন।
Asus ROG Phone 9 ডিজাইন ও ডিসপ্লে
প্রথম দেখাতেই এই asus phone ব্যবহারকারীদের নজর কাড়তে বাধ্য। আসুস তাদের সিগনেচার গেমিং ভাইব বজায় রেখেও ডিজাইনে কিছুটা মিনিমালিস্টিক ছোঁয়া এনেছে। ফোনের পেছনের অংশে ম্যাট ফিনিশ দেওয়া হয়েছে, যা হাতের ছাপ ও স্ক্র্যাচ পড়া রোধ করবে। যারা কেস ছাড়া ফোন ব্যবহার করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই গ্রিপটি বেশ আরামদায়ক হবে। ঢাকার আর্দ্র আবহাওয়ায় ফোন হাতে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখলেও এটি সহজে হাত থেকে পিছলে যাবে না। এর এরগোনমিক ডিজাইন গেমারদের দুই হাতে ফোন ধরে ল্যান্ডস্কেপ মোডে খেলার সময় সর্বোচ্চ স্বস্তি দেবে।
ডিসপ্লের কথা বলতে গেলে, এতে রয়েছে ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেটের একটি দুর্দান্ত অ্যামোলেড (AMOLED) প্যানেল। আমাদের মোবাইল রিভিউ 2026 সেশনের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, ১২০ হার্জ ডিসপ্লে স্ক্রোলিং এবং গেমিংয়ে মাখনের মতো মসৃণ অভিজ্ঞতা দেয়। স্ক্রিনের কালার রিপ্রোডাকশন এবং ব্ল্যাক লেভেল অত্যন্ত নিখুঁত হবে, যা নেটফ্লিক্স বা ইউটিউবে ফুল এইচডি কন্টেন্ট দেখার অভিজ্ঞতাকে আরও আকর্ষণীয় করবে। বাংলাদেশে কড়া রোদে ঘরের বাইরে বের হলে অনেক ফোনের ডিসপ্লে দেখতে সমস্যা হয়, তবে এর উচ্চ ব্রাইটনেস লেভেলের কারণে সরাসরি সূর্যের আলোতেও স্ক্রিনের প্রতিটি লেখা বা ছবি পরিষ্কার দেখা যাবে।
তাছাড়া, ডিসপ্লের সুরক্ষায় ব্যবহার করা হতে পারে কর্নিং গরিলা গ্লাস ভিক্টাস, যা অসাবধানতাবশত হাত থেকে পড়ে গেলেও ডিসপ্লে ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে দেবে। বেজেলগুলো বেশ পাতলা রাখা হয়েছে, যার ফলে স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও অনেক বেশি পাওয়া যাবে। সব মিলিয়ে মিডিয়া কনজাম্পশন এবং হাই-ফ্রেম-রেট গেমিং উভয়ের জন্যই এই ডিসপ্লেটি হবে অতুলনীয়।
Asus ROG Phone 9 ক্যামেরা: রাস্তায় কেমন ছবি উঠবে?

যদিও আসুস আরওজি সিরিজটি মূলত গেমিং কেন্দ্রিক, তবুও ২০২৬ সালের এই নতুন সংস্করণে ক্যামেরার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমাদের দেশে তরুণদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করার প্রবণতা অনেক বেশি। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী লালবাগ কেল্লা কিংবা আহসান মঞ্জিলের উজ্জ্বল রোদে এই ফোনের মাল্টি-ক্যামেরা সেটআপ দিয়ে চমৎকার ও প্রাণবন্ত ছবি তোলা সম্ভব হবে। এতে থাকা অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (OIS) প্রযুক্তির সাহায্যে রিকশায় বা চলন্ত অবস্থায়ও একদম কাঁপাকাঁপি ছাড়া স্থির ছবি ও স্থিতিশীল ভিডিও রেকর্ড করা যাবে।
রাতের বেলার ফটোগ্রাফির জন্য এতে দেওয়া হয়েছে উন্নত নাইট মোড। পুরান ঢাকার চকবাজারের রাতের আলো-আঁধারি পরিবেশ কিংবা হাতিরঝিলের নিয়ন বাতির আলোতে এই ক্যামেরা দিয়ে নয়েজ-মুক্ত ছবি তোলা যাবে। এর আল্ট্রা-ওয়াইড লেন্সটি দিয়ে বন্ধুদের সাথে গ্রুপ ছবি বা বিস্তৃত ল্যান্ডস্কেপ সহজেই ফ্রেমে বন্দি করা সম্ভব। এর প্রাইমারি সেন্সরটি লাইট সেন্সিটিভিটি বাড়িয়ে দেয়, ফলে কম আলোতেও ছবির ডিটেইলস চমৎকারভাবে বজায় থাকে। কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য এর ক্যামেরা অ্যাপে বেশ কিছু পেশাদার মোডও যুক্ত করা হয়েছে। অ্যান্ড্রয়েডের ক্যামেরা সেটিংস আরও ভালোভাবে বুঝতে আমাদের সাইটে প্রকাশিত অ্যাপ রিভিউ সেকশনটি ঘুরে আসতে পারেন।
সেলফিপ্রেমীদের জন্য সামনে থাকছে একটি ৩২ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা। দিনের আলোতে এটি দিয়ে ন্যাচারাল স্কিন টোন বজায় রেখে দারুণ পোর্ট্রেট সেলফি নেওয়া যাবে। ইনডোর বা কৃত্রিম আলোতেও সেলফি ক্যামেরার পারফরম্যান্স বেশ সন্তোষজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভিডিও কল বা লাইভ স্ট্রিমিং করার সময় এর অটো-ফোকাস সিস্টেম অত্যন্ত দ্রুত কাজ করবে, যা গেমারদের লাইভ স্ট্রিমিংয়ের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে।
Asus ROG Phone 9 পারফরম্যান্স ও ব্যাটারি
পারফরম্যান্সের দিক থেকে এই asus phone টি হবে একটি সত্যিকারের পাওয়ারহাউজ। ২০২৬ সালের লেটেস্ট ফ্ল্যাগশিপ ৪ ন্যানোমিটার চিপসেট দ্বারা চালিত এই ফোনটি ভারী গেমিং এবং মাল্টিটাস্কিং অনায়াসে সামলাতে পারবে। বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে পাবজি মোবাইল, ফ্রি ফায়ার কিংবা জেনশিন ইমপ্যাক্টের মতো ভারী গেমগুলোর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। এই ফোনে সর্বোচ্চ গ্রাফিক্স সেটিংসেও কোনো প্রকার ল্যাগ বা ফ্রেম ড্রপ ছাড়াই দীর্ঘ সময় গেম খেলা যাবে। এর ৮ জিবি বা ১২ জিবি র্যাম ব্যাকগ্রাউন্ডে একসাথে অনেকগুলো অ্যাপ সচল রাখতে সাহায্য করবে।
আমাদের দেশের গ্রীষ্মকালের প্রচণ্ড গরমে সাধারণত মোবাইলগুলো দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে যায়। আসুস তাদের নতুন কুলিং চেম্বার প্রযুক্তির মাধ্যমে এই সমস্যার কার্যকর সমাধান করার চেষ্টা করেছে। থার্মাল ম্যানেজমেন্ট উন্নত হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের পরেও ফোনের পারফরম্যান্স থ্রোটল করবে না। অর্থাৎ গেম খেলার সময় ফোনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং হাতের তালুতে অতিরিক্ত গরম অনুভূতি হবে না। এটি বাংলাদেশের বাজারে স্মার্টফোন দাম 2026 বিবেচনায় একটি বিশাল প্লাস পয়েন্ট।
দীর্ঘ সময় সচল রাখার জন্য এই ফোনে দেওয়া হয়েছে ৫০০০০ এমএএইচ-এর চেয়েও বড় শক্তিশালী ব্যাটারি। সাধারণ ব্যবহারে এটি সহজেই দেড় থেকে দুই দিন ব্যাকআপ দেবে। আর যদি আপনি পুরোদস্তুর গেমার হন, তাও এক চার্জে সারাদিন অনায়াসে পার করে দিতে পারবেন। এর সাথে থাকা ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তির মাধ্যমে মাত্র ৩০-৪০ মিনিটেই ফোনটি প্রায় শূন্য থেকে আশি শতাংশ চার্জ করা সম্ভব হবে। ফলে বারবার চার্জে বসিয়ে রাখার ঝামেলা পোহাতে হবে না।
বাংলাদেশে Asus ROG Phone 9 এর দাম ও পাওয়ার জায়গা
বাংলাদেশের বাজারে আসুসের অফিসিয়াল ও আনঅফিসিয়াল দুই ধরনের ফোনেরই ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। Asus বাংলাদেশ এই ফোনটি স্থানীয় বাজারে আনুমানিক ৳৩০,০০০ থেকে ৳৫০,০০০ টাকার মধ্যে লঞ্চ করতে পারে বলে খুচরা বিক্রেতা ও আমদানিকারক সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। এই বাজেটে এটি লঞ্চ হলে তা দেশের মিড-রেঞ্জ এবং বাজেট ফ্ল্যাগশিপ বাজারে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করবে। ফোনটি দেশের শীর্ষস্থানীয় গেজেট শপ যেমন স্টারটেক, রায়ান্স, ডেল্টা কম্পিউটার এবং দারাজের মতো জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যেতে পারে। ক্রেতাদের সুবিধার্থে বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ডে ইএমআই (EMI) সুবিধাও উপলব্ধ থাকতে পারে।
গ্লোবাল মার্কেট ও আসুসের ব্যবসায়িক ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চাইলে আপনারা Asus সম্পর্কে Wikipedia-তে পড়ুন। যারা প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে চান বা টেকনোলজি রিলেটেড চাকরির সন্ধান করছেন, তারা আমাদের নিয়মিত আপডেট করা চাকরির সার্কুলার পেজটি ভিজিট করতে পারেন।

একই বাজেটে প্রতিযোগী ফোন: কোনটা কিনবেন?
৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকার বাজেট সেগমেন্টে বর্তমানে অনেক শক্তিশালী প্রতিযোগী রয়েছে। এই বাজেটে শাওমি, রিয়েলমি এবং স্যামসাংয়ের বেশ কিছু জনপ্রিয় মডেল রয়েছে যা সরাসরি এই নতুন আসুস ফোনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তবে আসুসের মূল শক্তি হলো এর ডেডিকেটেড গেমিং ফিচার এবং গেমার-বান্ধব ইউজার ইন্টারফেস (ROG UI)। যেখানে সাধারণ ফোনগুলো দীর্ঘ সময় গেমিংয়ের পর ধীরগতির হয়ে যায়, সেখানে আসুস আরওজি সিরিজের ফোনগুলো নিরবচ্ছিন্ন পারফরম্যান্স প্রদান করে।
অন্যান্য ব্র্যান্ড যেখানে ক্যামেরার মেগাপিক্সেল বাড়াতে ব্যস্ত, আসুস সেখানে ফোকাস করেছে ওআইএস (OIS) এবং থার্মাল স্ট্যাবিলিটির ওপর। আপনি যদি একজন সাধারণ ব্যবহারকারী হন যার মূল অগ্রাধিকার শুধু ক্যামেরা, তবে হয়তো আপনি অন্য ব্র্যান্ডের দিকে ঝুঁকতে পারেন। কিন্তু আপনার লক্ষ্য যদি হয় স্মুথ পারফরম্যান্স, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি এবং অসাধারণ বিল্ড কোয়ালিটি, তবে আসুসের এই ফোনটি প্রতিযোগীদের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকবে।
কে কিনবেন, কে কিনবেন না?
- ✅ কিনুন: যারা ৩০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা বাজেটের মধ্যে সেরা মানের গেমিং পারফরম্যান্স চান।
- ✅ কিনুন: যাদের জন্য ১২০ হার্জ অ্যামোলেড ডিসপ্লে এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- ✅ কিনুন: যারা ওআইএস (OIS) যুক্ত ক্যামেরা দিয়ে যেকোনো পরিস্থিতিতে ঝাঁকুনিহীন স্থিতিশীল ছবি তুলতে চান।
- ❌ এড়িয়ে যান: যারা ওয়ান-হ্যান্ডেড ব্যবহারের জন্য অতি হালকা ও স্লিম ডিজাইনের ফোন খুঁজছেন।
- ❌ এড়িয়ে যান: যাদের গেমিং নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই এবং শুধুমাত্র সাধারণ সোশাল মিডিয়া স্ক্রোলিংয়ের জন্য ফোন চান।
বিশেষজ্ঞ মতামত (Expert Opinion)
একজন সিনিয়র মোবাইল টেক সাংবাদিক হিসেবে দীর্ঘ সময় বাজার পর্যবেক্ষণ করার পর আমি মনে করি, আসুস তাদের এই আরওজি সিরিজের মাধ্যমে বাংলাদেশের বাজারে একটি নতুন বেঞ্চমার্ক স্থাপন করতে যাচ্ছে। সাধারণত প্রিমিয়াম গেমিং ফোনগুলোর দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে থাকে। কিন্তু এই আসুস ফোনটি যদি আনুমানিক ৩০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকার মধ্যে রিলিজ হয়, তবে এটি হবে ২০২৬ সালের অন্যতম সেরা ভ্যালু-ফর-মানি গেমিং ডিভাইস।
ফোনটির ইতিবাচক দিক হলো এর চমৎকার ১২০ হার্জ অ্যামোলেড ডিসপ্লে, ল্যাগ-ফ্রি গেমিং প্রসেসর এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফ। তবে এর একটি দুর্বল দিক হতে পারে এর ওজন ও থিকনেস, যা গেমিং কুলিং সিস্টেমের কারণে কিছুটা বেশি হতে পারে। তবুও সার্বিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় এটি একটি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ প্যাকেজ। আমাদের দীর্ঘদিনের রিভিউ অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায়, আপনি যদি ২০২৬ সালে এসে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী ফোন কেনার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে বাজেট তালিকায় এই মডেলটি সবার উপরে রাখা উচিত।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
Asus ROG Phone 9 বাংলাদেশে কবে আসবে?
Asus ROG Phone 9 ফোনটি ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্ববাজারে এবং এর কিছুদিন পরেই বাংলাদেশের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে কিংবা অনানুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
বাংলাদেশে Asus ROG Phone 9 এর দাম কত?
বাংলাদেশের বাজারে Asus ROG Phone 9 এর আনুমানিক দাম হতে পারে ৳৩০,০০০ থেকে ৳৫০,০০০ টাকার মধ্যে, যা র্যাম ও স্টোরেজ ভেরিয়েন্টের ওপর নির্ভর করে কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।
এই ফোনটি কি গেমিংয়ের জন্য ভালো?
হ্যাঁ, এই ফোনে থাকছে সর্বশেষ ফ্ল্যাগশিপ চিপসেট এবং ১২০ হার্জের অ্যামোলেড ডিসপ্লে, যা পাবজি এবং জেনশিন ইমপ্যাক্টের মতো ভারী গেমগুলো ল্যাগ ছাড়াই মসৃণভাবে চালাতে সক্ষম।
Asus ROG Phone 9 কি পানি-প্রতিরোধী?
লিক হওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ফোনটিতে IP68 ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স রেটিং থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে, যা এটিকে সামান্য পানি ও ধুলাবালি থেকে সুরক্ষিত রাখবে।
অন্যান্য ব্র্যান্ড নাকি Asus ROG Phone 9 — কোনটা কিনবো?
আপনার যদি মূল লক্ষ্য হয় গেমিং, থার্মাল কুলিং এবং রুগ্ন বিল্ড কোয়ালিটি, তবে এই বাজেটে আসুস কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অন্যদিকে শুধুমাত্র সাধারণ ব্যবহারের জন্য অন্য ব্র্যান্ড বেছে নেওয়া যেতে পারে।
📌 সর্বশেষ কথা: ২০২৬ সালে এসে যারা একটি অল-রাউন্ডার পারফরম্যান্স ও বাজেট-বান্ধব গেমিং ডিভাইসের খোঁজ করছেন, তাদের জন্য এই asus phone হতে পারে একটি আদর্শ বিকল্প। চমৎকার ডিসপ্লে, দীর্ঘ ব্যাটারি এবং আকর্ষণীয় ডিজাইনের সমন্বয়ে এটি ব্যবহারকারীদের সেরা অভিজ্ঞতা দেবে। আমাদের এই রিভিউটি আপনার কেমন লাগলো তা নিচে কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। আমাদের সাইটে নিয়মিত নতুন নতুন টেক আপডেট পেতে এই পেজটি বুকমার্ক করে রাখুন। আপনার মতে এই বাজেটে আসুস কি পারবে অন্যান্য ব্র্যান্ডগুলোকে টেক্কা দিতে? কমেন্টে আপনার মতামত জানান!


