১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন পরীক্ষার্থীর অপেক্ষায় প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেছে। এবার শেষমেশ স্থির হলো এসএসসি রেজাল্ট ২০২৬ প্রকাশের তারিখ। শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন — ১০ জুলাই ২০২৬, বিকেল সওয়া ২টায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
পাসের হার কমে এসেছে ৬৮.৪৫ শতাংশে
এবার সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৸.৪৫ শতাংশে। গত বছর এই হার ছিল ৮৩.০৪ শতাংশ। মানে প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী, যেখানে গত বছর এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৮২ হাজার।
বোর্ড চেয়ারম্যান তথ্য দিয়েছেন, বিশেষ করে গণিতে দুর্বল পারফরম্যান্স এবং মানবিক বিভাগের পড়ুয়াদের ফলাখাতা খারাপ যাওয়ার কারণে পাসের হার নেমেছে। এবার কোনো অনুগ্রহ বা অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। কাউকে বাড়তি নম্বর দেওয়া হয়নি — এটাই প্রকৃত ফলাফল।
কোথায় ও কীভাবে রেজাল্ট দেখবেন
দুটি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে রেজাল্ট দেখা যাবে। প্রথমত — educationboardresults.gov.bd এবং দ্বিতীয়ত — eboardresults.com। উভয় সাইটেই রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে লগইন করলেই বিষয়ভিত্তিক নম্বরসহ মার্কশিট পাওয়া যাবে।
ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলে এসএমএসের মাধ্যমেও রেজাল্ট দেখা যাবে। মোবাইলে এসএমএস করতে হবে: SSC স্পেস রোল নম্বর স্পেস বোর্ড কোড লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। যেমন — SSC 123456 DHA ১৬২২২।
পুনর্নিরীক্ষন বোর্ড চ্যালেঞ্জ কবে থেকে
ফলাফল প্রকাশের পরদিন থেকেই খাতা পুনর্নিরীক্ষনের আবেদন করা যাবে। ১১ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। নির্ধারিত ফি প্রতি বিষয়ের জন্য আলাদা করে প্রদান করতে হবে। পুনর্নিরীক্ষনের ফলাফল সাধারণত ৪-৬ সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ হয়।
বোর্ডভিত্তিক পাসের হারে রাজশাহী এগিয়ে
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে আছে রাজশাহী বোর্ড। তলানিতে পড়েছে বরিশাল বোর্ড। চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭২.০৭ শতাংশ, কুমিল্লায় ৬৩.৬০ শতাংশ এবং বরিশালে ৫৬.৩৮ শতাংশ। কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৭৩.৬৩ শতাংশ।
মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৬৮.০৯ শতাংশ। দেশসেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে চমকেছে ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদ্রাসা। দিনাজপুর বোর্ডে ১৩টি বিদ্যালয়ে একজনও পাস করেনি। অন্যদিকে ময়মনসিংহ ও দিনাজপুর বোর্ডে মেয়েরা ছেলেদের ছাড়িয়ে গেছে।
পরীক্ষা কেমন ছিল এবার
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ১০ এপ্রিল। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। এরপর ৭ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। সারাদেশে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। ছাত্রী ছিলেন ৯ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩৯ জন এবং ছাত্র ৯ লাখ ৬১ হাজার ২৩১ জন।
শিক্ষা উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এবার কোনো অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিতা ছাড়াই দুই মাসেরও কম সময়ে ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার এহসানুল কবির ঢাকা বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে ফলাফল ঘোষণা করবেন।
পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ টিপস
রেজাল্ট দেখার আগে কয়েকটি জিনিস হাতের কাছে রাখুন। প্রথমত — ৬ ডিজিটের রোল নম্বর। দ্বিতীয়ত — ১০ বা ১১ ডিজিটের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, যা মার্কশিট দেখার জন্য জরুরি। তৃতীয়ত — নিজ বোর্ডের সঠিক নাম জেনে রাখুন। একটি সংখ্যা ভুল হলেই রেজাল্ট দেখাবে না।
রেজাল্ট প্রকাশের প্রথম কয়েক ঘণ্টায় সার্ভারে চাপ বেশি থাকতে পারে। তাই ওয়াইফাই বা ৪জি কানেকশন নিশ্চিত রাখুন। প্রয়োজনে কয়েক ঘণ্টা পর আবার চেষ্টা করুন। অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ছাড়া অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের সাইটে ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না।
এসএসসি রেজাল্ট ২০২৬ প্রকাশের পর এই বছরের এইচএসসি পরীক্ষার রুটিনও ঘোষণা করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন আগেই জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি এবং এইচএসসি ৬ জুন থেকে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শুরু করার সময় এখনই শুরু।

