বাংলাদেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় সারাদেশের সব শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্র থাকবে। বর্তমানে বিভিন্ন বোর্ডে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা হয়, যা শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে অমনযোগ্যতা তৈরি করে—এমন অভিযোগ দীর্দিন চলে আসছিল।

এক দেশ, এক প্রশ্ন

শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “একই বাংলাদেশে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ভিন্ন প্রশ্নপত্রে নেওয়া চলবে না।” তিনি জানান, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের প্রসঙ্গে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা সমান সুযোগে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে এবং ফলাফলের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।

নকল নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নকলের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “নকল-প্রশ্নফাঁস আর ফিরে আসবে না।” এসএসসি পরীক্ষাযন্ত্রণালয়ে সুরক্ষা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে কঠোর পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হবে। বোর্ডগুলোকে প্রতিটি বিষয়ে একাধিক সেট প্রশ্নপত্তর প্রস্তুত রাখাও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন শিক্ষাক্রমে পরীক্ষা

উল্লেখ্য, ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নতুন পাঠ্যক্রমের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক নতুনভাবে সিলেবাস, প্রশ্নের ধরন ও নম্বর বণ্টন নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, নতুন শিক্ষাক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়ন হতে সময় লাগবে—তবে ধীরে ধীরে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের উপকার হবে

এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষায় বৈষম্য দূর হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। একই মানের প্রশ্নের মাধ্যমে সব শিক্ষার্থীর যোগ্যতা মূল্যায়ন হবে বলে শিক্ষাবিদরা এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও এই খবর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জাগাচ্ছে।

উৎস: প্রথম আলো, দৈনিক ইত্তেফাক, জাগনিউজ২৪, এসএসআইটিবারি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশনা।

শেয়ার করো: Facebook Telegram WhatsApp